পৃষ্ঠাসমূহ

শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১১

অনলাইনে চ্যাট করে প্রতি মাসে টাকা আয়ের বিশ্বস্ত একটি সাইট

প্রিয় পাঠক, আজ আমি আপনাদেরকে এমন একটি সাইটের কথা বলব, যে সাইট এ জয়েন করে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করে করে মাসে ভাল অংকের ডলার আয়  করা যায়। এই সাইট থেকে প্রতি মাসে অনেক বাংলাদেশী শ শ ডলার আয় করছেন। তারা নিয়মিত ডলার পাচ্ছেন।


এই সাইটের সুযোগ সুবিধা সমূহ
১. প্রতি ৫০০ লাইনে এক ক্রেডিট। এক ক্রেডিট=১ডলার থেকে সামান্য বেশী।
২. ১০০% রেফারাল বোনাস। অর্থাৎ আপনি যদি কাউকে রেফার করেন, তিনি যত আয় করবেন আপনিও তার সমান পাবেন। পুরো ক্লিয়ার হয়নি বোধহয়। ধরুন আপনি ৫০০ লাইন লিখলেন তাহলে আপনি পাবেন ১ ক্রেডিট। এখন আপনার রেফারাল ও যদি ৫০০ লাইন লিখেন তাহলে তিনি তো ১ ক্রেডিট পাবেন ই সাথে সাথে আপনি ও এক ক্রেডিট পাবেন। আপনার যদি ১০জন রেফারাল থাকেন এবং প্রত্যেকেই যদি প্রতিদিন মাত্র ৫০০ লাইন লিখেন পাশাপাশি যদি আপনিও ৫০০ লাইন লিখেন তাহলে তারা প্রত্যেকে ১ ক্রেডিট করে পাবেন। আর আপনি পাবেন ১১ ক্রেডিট। ১ ক্রেডিট সমান যদি ১ ডলারও ধরি তাহলে আপনার আয় প্রতিদিন ১১ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ৭৭০টাকা। তাহলে মাসে আপনার আয় ২৩,১০০টাকা। আমার কথা বিশ্বাস না হলে এই সাইটে জয়েন করে সাইটের অন্যান্য সদস্যদেরকে যারা ৭/৮মাস ও বছর খানেক ধরে আছেন তাদের কে জিজ্ঞেস করে দেখুন। সত্যতা না পেলে কাজ করার দরকার নাই।
৩. আরো অনেক সুযোগ সুবিধা আছে। যে গুলো বুঝা একটু সময়সাপেক্ষ।


যাক, এখন জানার চেষ্টা করি কিভাবে এই সাইটে জয়েন করতে হয়, চ্যাট করতে হয়, এবং সাইটের নিয়মাবলী নিয়ে আমার আজকের এই পোষ্ট। আশা করি আমার এই পোষ্টটি পড়ে উপকৃত হবেন। যাক, এখন কাজের কথায় আসি। সাইটটিতে জয়েন করতে প্রথমে এখানে ক্লিক করুন।নীচের পেইজর মতো একটি পেইজ আসবে।


এই পেইজের সকল তথ্য পূরণ করুন। username এর ঘরে আপনি একটি নাম লিখুন। নামটা একটু লম্বা লিখবেন। তবে খুব বেশী লম্বা নাম দিবেন না। password এর ঘরে ৬ বা আট ডিজিটের একটা পাসওয়ার্ড দিন। retype password এর ঘরে পাসওয়ার্ডটি আবার লিখুন। E-MAIL (ALERTPAY) এর ঘরে আপনার এলার্টপে একাউন্ট যে ইমেইল দিয়ে খোলা হয়েছে সেই ইমেইল টি দিন। আপনার ডলার আপনার এলার্টপে একাউন্ট এ জমা হবে। আপনার যদি এলার্টপে একাউন্ট না থাকে তাহলে এই লিংক এ ক্লিক করে একটা এলার্টপে একাউন্ট খুলুন। এলার্টপে একাউন্ট খুলতে কোন সমস্যা হলে আমার সাথে যোগাযোগ করুন০১৬৭৪২৬৫২০৮ নাম্বারে অথবা মেইল করুন hamidashraf23@gmail.com। এখন  E-MAIL (ALERTPAY) এর ঘরে আপনার এলার্টপে একাউন্ট এর ইমেইলটি দিন। REFERER এর ঘরে কিছু লিখতে হবে না। FULL NAME এর ঘরে আপনার পুরো নাম টা লিখুন। COUNTRY এর ঘরে Bangladesh লিখুন। ‍SEXএর ঘরে আপনি ছেলে হলে Male আর মেয়ে হলে Female দিন। Birth year এর ঘরে আপনার জন্ম সাল দিন। INFO, ACTIVITIES, NOTES or REMARKS এই ঘর গুলোতে কোন কিছু না লিখলেও চলবে। তারপর CAPTCHA  লেখার ডান পাশে যে বক্স দেয়া আছে তার ডানে ৪টি ইংরেজী সংখ্যা দেয়া আছে ওই সংখ্যাগুলো বক্সের মধ্যে লিখুন। তারপর SUBMIT এ ক্লিক করুন। ব্যস আপনার একাউন্ট তৈরী হয়ে গেল। এখন একটি পেইজ আসবে যেখানে লিখা থাকবে Your account has been successfully created. ওই পেইজের নীচে লেখা আসবে Continue । এখানে ক্লিক করলে নীচের পেইজের মতো একটা পেইজ আসবে।


এই পেইজে NAMEএর ঘরে আপনার ইউজার নেইম  PASSWORD এর ঘরে আপনার পাসওয়ার্ড দিয়ে LOGIN এ ক্লিক করুন। নীচের পেইজের মতো একটি পেইজ আসবে এটাই আপনার প্রোফাইল পেইজ।


এই পেইজের উপরে বড় করে লেখা  home এর নীচে fro2g chat লেখায় ক্লিক করুন। তাহলে আপনি নীচের পেইজের মতো একটি পেইজ দেখতে পাবেন।

এই পেইজটাতে আপনার সকল কাজ করতে হবে। দেখুন, পেইজের উপরে বাম দিকে ROOMS লেখা আছে। তার নীচে WORLD ROOM লেখা আছে। এর মানে হলো যে, এই সাইটে চ্যাট করার বিভিন্ন রুম আছে। আপনি কোন রুমে আছেন তা এখানে দেখতে পারবেন। যেহেতু আপনি বাংলা ভাষী, তাই আপনার জন্য ASIA ROOM এ চ্যাট করা উত্তম। কারণ ওই রুমে অনেক বাংলাদেশী ইউজার পাবেন যাদের সাথে ইংলিশ লেটারে বাংলায় চ্যাট করতে পারবেন। এখন আপনার ডলার আয়ের কাজ শুরু করেন। অর্থাৎ চ্যাট করা শুরু করেন। আর হ্যা, এখানে চ্যাট করার কিছু  নিয়ম আছে। এই নিয়মগুলো মেনে চলে চ্যাট করুন। আমি সহজ ভাষায় নিয়মগুলো এখানে বলে দিচ্ছি। না বুঝলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।
১. আপনি চ্যাট রুমের যে কোন একজনকে tag করে চ্যাট করতে হবে। একসাথে একই লাইনে একাধিক ইউজারনেইম tag করা যাবে না। tag করা মানে কোন একজনকে সম্বোধন করে লিখা। tag করার জন্য আপনি যাকে সম্বোধন করতে চাচ্ছেন তার নামের উপরে কার্সর নিয়ে ক্লিক করুন। তাহলে দেখবেন ওই ইউজারনেইমটি পেইজের নীচের লম্বা খালি জায়গায় ভেসে উঠবে। ব্যস এখন তাকে উদ্দেশ্য করে লিখতে থাকুন।
২.আপনার প্রতিটি লাইনে চল্লিশটি কারেক্টার হতে হবে। শব্দ কম টাইপ করার জন্য লম্বা ইউজারনেইমধারীকে সম্বোধন করতে চেষ্টা করুন।
৩. নিরর্থক কিছু লেখবেন না যেমন hhhhhhhhhhasskskkdd cdndnfnf .......... ///// ????????। এধরণের লিখলে আপনাকে ব্যান করে দিবে।
৪. আরেকটা নিয়ম আছে যা এখানে বলব না। আপনি যদি জয়েন করেন তাহলে আমাকে কল অথবা মেইল করবেন। আমি বলে দিব।
এই হলো মোটামোটি নিয়মগুলো।

সম্ভাব্য প্রশ্ন ও উত্তর
১. কত লাইন লিখেছি তা কিভাবে দেখব?
উ: আপনার চ্যাট পেইজের যেখানে চ্যাট লিখেন তার বাম পাশে শহীদ মিনারের মতো তিনটা বার আছে দেখুন। এখানে ক্লিক করলে নীচের পেইজের মতো একটা পেইজ আসবে।
এই পেইজে আপনার সবকিছু লিখা আছে। আপনি কতজনকে রেফার করেছেন, কত লাইন লিখেছেন, আপনার এলার্টপে মেইল কোনটা, আপনি বর্তমান মাসে কত ক্রেডিট আয় করেছেন, আপনি কত দিন ধরে এক্টিভ আছেন, আপনি পেমেন্ট পাওয়ার যোগ্য কি না, আপনার রেফারাল লিংক কি ইত্যাদি সব কিছু এই পেইজে দেখতে পারবেন।
আশা করি ইতিমধ্যে এই সাইটে জয়েন করে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এই পোষ্ট থেকে আপনারা উপকৃত হলে আমাকে জানাবেন। আগামীতে আরো পোষ্ট নিয়ে হাজির হবো ইনশাআল্লাহ। সবাই ভাল থাকুন।

মঙ্গলবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

লন্ডন প্রবাসী বর্তমান বাংলাদেশী প্রজন্ম কোন পথে?


বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিশেষ করে সিলেট জেলার অনেক লোক লন্ডনে থাকেন। এখনো অনেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিমিত্তে লন্ডনে পাড়ি জমাচ্ছেন। সেখানে তারা পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা আয় করে দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে। দেশে রেখে যাওয়া আত্মীয়-স্বজন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছেন। এগুলো সব আমাদের জানা কথা। আমি একটু ভিন্ন বিষয়ে ভাবছি। সেই ভাবনাগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করতে মনস্থির করেছি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, যারা লন্ডনে  আছেন তারা সবাই কি দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, যোগাযোগ রক্ষাকারী প্রবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে না কমছে, সেখানে তাদের আচার আচরণ কেমন এসব নিয়ে কি আমাদের ভাবনার প্রয়োজন আছে? আমি তো মনে করি অবশ্যই এসব নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশী যারা লন্ডনে আছেন তাদের অধিকাংশই মুসলমান, কিন্তু সেখানের অধিকাংশ নাগরিকই খৃষ্টান। আমাদের সংস্কৃতি ও সেখানের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের জীবনাচার এবং তাদের জীবনাচারে আকাশ-পাতাল তফাত। যদিও আয়-রোজগারের জন্য বাংলাদেশীরা সেখানে বসবাস করছেন, সেদেশের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন তাই বলে এর অর্থ এটা নয় যে, আমরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভূলে গিয়ে তাদের মত হয়ে যাব। আমাদের বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের জীবনাচার ধারণে উদ্বুদ্ধ করব। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যারা লন্ডনে আছেন তারা তাদের ছেলে-মেয়ে তথা বর্তমান প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস -ঐতিহ্য,ও জীবনাচার সম্পর্কে যথাযথ দিক নির্দেশনা দিতে পারছেন না ( আলহামদুলিল্লাহ কেউ কেউ পারছেন কিন্তু তাদের এ সংখ্যাটা খুবই কম )। আমার এই ধারণা অনুমিত হওয়ার কারণ অনেক। তন্মধ্যে দুয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি।আজকের তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ রক্ষাকারী সাইটে হলো ফেইসবুক। এই ফেইসবুকের সুবাদেই আমি আমার অনেক কাছের মানুষ যাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা সত্তেও যোগাযোগের অভাব থাকায় সম্পর্কটাই প্রায় ছিন্ন হতে চলেছিল, তাদেরকে খুজে পেয়েছি। আমার খুব কাছের বেশকিছু আত্মীয়-স্বজন লন্ডনে থাকেন। তাদেরকে খুজতে গিয়ে তাদের জীবনাচরণ সম্পর্কে যা কিছু ধারণা লাভ করেছি তাতে আমার মনে প্রবল আশংকা জন্মেছে যে আমাদের প্রজন্ম নির্ঘাত পথহারা হয়ে যাচ্ছে। আমার এক নিকটাত্মীয়ের ফেইসবুকে দেখলাম সে বলছে আল্লাহ বলতে কেউ নেই (নাউযুবিল্লাহ)। এটা তো নির্ঘাত নাস্তিকতা। আমি জানিনা তার মাঝে এমন ধারণা কিভাবে জন্মালো? আরেক জনের স্ট্যাটাসে এমন সব উক্তি দেখলাম যা একজন মুসলমানের বাচ্চা বলতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হয়। আরেক জন বলছে সে বাংলাদেশকে ঘৃণা করে। আমি তাকে বললাম কেন তোমার এমন মনে হয় সে বলল এদেশের মানুষের কালচার ভালোনা। আমি তাকে বললাম তুমি দেশে কতবার এসেছ সে বললো আমি ছোটবেলায় গিয়েছিলাম। আর যাইনি এবং যাবোওনা। আমি বুঝতে পারলাম তার অভিভাবক তাকে দেশে নিয়ে আসেননি। দেশের কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেননি ফলে তার মাঝে এদেশ সম্পর্কে এমন বিরূপ ধারণ জন্মেছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই বেদনাদায়ক। যারা আজ লন্ডনে অবস্থান করছেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন তাদের ছেলে-মেয়েকে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্বন্ধে একটা ভালো ধারণা দিতে সচেষ্ট খাকেন। তাদেরকে যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নতুবা খুব শিগগিরই এমন একটা সময় আসবে যখন তাদের ছেলে-মেয়েরা তাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকেই ভূলে যাবে। তারা আচার-আচরণে সম্পূর্ণ ইউরোপিয় হয়ে যাবে। আল্লাহ না করুন যদি বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হন তা হলে এর কুফল সর্বাগ্রে ওইসব অভিভাবকরাই ভোগ করবে। এবং এখন যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে তা ও বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের উন্নতি অগ্রগতির বদলে আমরা আমাদের প্রিয়ভাজন বর্তমান প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলব। তখন আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে ভাবার অনুরূধ করছি।
Posted in Unca