বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বিশেষ করে সিলেট জেলার অনেক লোক লন্ডনে থাকেন। এখনো অনেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিমিত্তে লন্ডনে পাড়ি জমাচ্ছেন। সেখানে তারা পরিশ্রম করে টাকা-পয়সা আয় করে দেশে পাঠাচ্ছেন। এতে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হচ্ছে। দেশে রেখে যাওয়া আত্মীয়-স্বজন সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছেন। এগুলো সব আমাদের জানা কথা। আমি একটু ভিন্ন বিষয়ে ভাবছি। সেই ভাবনাগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করতে মনস্থির করেছি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, যারা লন্ডনে আছেন তারা সবাই কি দেশের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন, যোগাযোগ রক্ষাকারী প্রবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে না কমছে, সেখানে তাদের আচার আচরণ কেমন এসব নিয়ে কি আমাদের ভাবনার প্রয়োজন আছে? আমি তো মনে করি অবশ্যই এসব নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশী যারা লন্ডনে আছেন তাদের অধিকাংশই মুসলমান, কিন্তু সেখানের অধিকাংশ নাগরিকই খৃষ্টান। আমাদের সংস্কৃতি ও সেখানের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমাদের জীবনাচার এবং তাদের জীবনাচারে আকাশ-পাতাল তফাত। যদিও আয়-রোজগারের জন্য বাংলাদেশীরা সেখানে বসবাস করছেন, সেদেশের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন তাই বলে এর অর্থ এটা নয় যে, আমরা আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভূলে গিয়ে তাদের মত হয়ে যাব। আমাদের বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের জীবনাচার ধারণে উদ্বুদ্ধ করব। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যারা লন্ডনে আছেন তারা তাদের ছেলে-মেয়ে তথা বর্তমান প্রজন্মকে আমাদের ইতিহাস -ঐতিহ্য,ও জীবনাচার সম্পর্কে যথাযথ দিক নির্দেশনা দিতে পারছেন না ( আলহামদুলিল্লাহ কেউ কেউ পারছেন কিন্তু তাদের এ সংখ্যাটা খুবই কম )। আমার এই ধারণা অনুমিত হওয়ার কারণ অনেক। তন্মধ্যে দুয়েকটি এখানে উল্লেখ করছি।আজকের তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে অন্যতম সামাজিক যোগাযোগ রক্ষাকারী সাইটে হলো ফেইসবুক। এই ফেইসবুকের সুবাদেই আমি আমার অনেক কাছের মানুষ যাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকা সত্তেও যোগাযোগের অভাব থাকায় সম্পর্কটাই প্রায় ছিন্ন হতে চলেছিল, তাদেরকে খুজে পেয়েছি। আমার খুব কাছের বেশকিছু আত্মীয়-স্বজন লন্ডনে থাকেন। তাদেরকে খুজতে গিয়ে তাদের জীবনাচরণ সম্পর্কে যা কিছু ধারণা লাভ করেছি তাতে আমার মনে প্রবল আশংকা জন্মেছে যে আমাদের প্রজন্ম নির্ঘাত পথহারা হয়ে যাচ্ছে। আমার এক নিকটাত্মীয়ের ফেইসবুকে দেখলাম সে বলছে আল্লাহ বলতে কেউ নেই (নাউযুবিল্লাহ)। এটা তো নির্ঘাত নাস্তিকতা। আমি জানিনা তার মাঝে এমন ধারণা কিভাবে জন্মালো? আরেক জনের স্ট্যাটাসে এমন সব উক্তি দেখলাম যা একজন মুসলমানের বাচ্চা বলতে পারে সেটা বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হয়। আরেক জন বলছে সে বাংলাদেশকে ঘৃণা করে। আমি তাকে বললাম কেন তোমার এমন মনে হয় সে বলল এদেশের মানুষের কালচার ভালোনা। আমি তাকে বললাম তুমি দেশে কতবার এসেছ সে বললো আমি ছোটবেলায় গিয়েছিলাম। আর যাইনি এবং যাবোওনা। আমি বুঝতে পারলাম তার অভিভাবক তাকে দেশে নিয়ে আসেননি। দেশের কৃষ্টি-কালচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেননি ফলে তার মাঝে এদেশ সম্পর্কে এমন বিরূপ ধারণ জন্মেছে। এটা আমাদের জন্য সত্যিই বেদনাদায়ক। যারা আজ লন্ডনে অবস্থান করছেন তাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন তাদের ছেলে-মেয়েকে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্বন্ধে একটা ভালো ধারণা দিতে সচেষ্ট খাকেন। তাদেরকে যথাযথ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। নতুবা খুব শিগগিরই এমন একটা সময় আসবে যখন তাদের ছেলে-মেয়েরা তাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকেই ভূলে যাবে। তারা আচার-আচরণে সম্পূর্ণ ইউরোপিয় হয়ে যাবে। আল্লাহ না করুন যদি বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হন তা হলে এর কুফল সর্বাগ্রে ওইসব অভিভাবকরাই ভোগ করবে। এবং এখন যে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে তা ও বন্ধ হয়ে যাবে। দেশের উন্নতি অগ্রগতির বদলে আমরা আমাদের প্রিয়ভাজন বর্তমান প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলব। তখন আফসোস করা ছাড়া আর কিছুই করার থাকবেনা। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে ভাবার অনুরূধ করছি।
Posted in Unca